- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
কামাল ভাইয়ের নাটক পরিচালনা
এ্যানুয়েল পরীক্ষা শেষ। সারাদিন অবসর। কি যে করব ভেবেই পাই না। সারাদিন খালি খালি বসে মোটেই ভালো লাগে না।
এমন সময় একদিন কামাল ভাই বলল: ফোকলা, একটা কাজ করলে হয় না?
আমি উৎসুক হয়ে উঠলাম: কি কাজ?
: ভাবছি, এখন তো সারাদিনই অবসর, একটা নাটক করলে হয় না?
: নাটক?
মন্টু হঠাৎ হেসে উঠে বলে বসল: তোমরা করবে নাটক, তবেই সেরেছে। তোমাদের দ্বারা যদি নাটক হয়—
কামাল ভাই ঘুষি বাগিয়ে বলে উঠল: পাজী কোথাকার। কেন হবে না শুনি?
মন্টু ভয়ে ভয়ে চুপ করে গেল।
আমি কামাল ভাইকে একটু উৎসাহ দিয়ে বললাম: তবে একটা নাটক সিলেকশন করে ফেলো।
ঝন্টু এতক্ষণ চুপ করেছিল। এবার সে একটু উৎসাহ দেখিয়ে বলল: সিরাজদ্দৌলা করলে কেমন হয়?
কামাল ভাই তাকে এক ধমক দিয়ে থামিয়ে দিল রাখ তোর সিরাজদ্দৌলা। ওসব নাটক পুরোনো হয়ে গেছে। নতুন কিছু কর।
আমি বললাম: কি ধরনের নাটক করতে চাও?
কামাল ভাই বলল: ঐতিহাসিক।
আমি বললাম: টিপু সুলতান কর।
কামাল ভাই বলল: উঁহু, হলো না। তুই বরং কতকগুলো নাটকের নাম বলে যা।
আমি এক এক করে বলে যেতে লাগলাম: তিতুমীর, শাজাহান, আকবর, মোগল-পাঠান।
কিন্তু কামাল ভাইয়ের কোন নাটকই পছন্দ হল না। বলল: উঁহু, ওসব নাটকে হবে না।
আমি রেগে গেলাম। বললাম: কোন নাটকই যদি তোমার পছন্দ না হয়, তবে কোন্ নাটক করবে? নিজে লিখবে নাকি?
কামাল ভাই বলল: হ্যাঁ, তাই লিখব।
আমি তো চমকে উঠলাম: তুমি লিখবে নাটক। যার ষোল আনাই লিখতে আঠারোটা বানান ভুল হয়, সেই তুমি কি না লিখবে নাটক, এ্যাঁ।
কামাল ভাই বলল: চুপ কর, আমি কি নাটক লিখতে পারি না নাকি?
আমি বললাম: তুমি অবশ্যি নাটক লিখলেও লিখতে পারো, কিন্তু সেটা আমরা পড়তে পারব কিনা, কে জানে?
কামাল ভাই বলল: কেন, পড়তে পারবিনে কেন?
আমি বললাম: মানে বানান-টানানগুলো একটু…
কামাল ভাই বলল: বানান-টানানগুলো কি?
: মানে একটু ইয়ে আর কি…
: ইয়ে কি রে? যা বলবার তাড়াতাড়ি বল?
আমি বুঝলাম ঘোর বিপদ। তাই তাড়াতাড়ি বলে বসলাম: মানে তুমি উঁচু ক্লাসে পড়তে কি না, তাই তোমার ঐ সব আধুনিক বানান যদি বুঝতে না পারি?...
কামাল ভাই আমার পিঠ চাপড়ে বলে উঠল: ওঃ, তাই বল।
এর পরের দিন কামাল ভাইকে আর বেরুতেই দেখলাম না। দু'দিন পরে কামাল ভাই যখন বেরুলো, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: এ দু'দিন আস নি কেন?
: নাটক লিখছিলাম যে।
: নাটক শেষ হয়েছে?
: না, কিছু বাকী রয়েছে। আগামী রোববার তোদের দেখাব।
রোববার। সকাল বেলা। আমরা সবাই ঝন্টুদের রোয়াকে বসে রোদ পোহাচ্ছি। এমন সময় কামাল ভাই একগাদা কাগজ হাতে নিয়ে হাজির হল।
আমি বললাম: নাটক বুঝি?
কামাল ভাই বলল: হ্যাঁ, নাটক।
তারপর একটু থেমে বলল: যা একটা নাটক লিখেছি, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুশো বছরের মধ্যে এরকম নাটক কেউ লিখেছে কিনা, আমার সন্দেহ আছে।
কটু আবার ফোড়ন কাটল: ইংরেজীতে অনুবাদ করে পাঠিয়ে দাও না, নোবেল প্রাইজ পেয়ে যেতে পার।
কামাল ভাই হয়তো এতে রেগে যেত, কিন্তু তার আগেই আমি বলে উঠলাম: কেন, কামাল ভাই কি নোবেল প্রাইজ পেতে পারে না নাকি? তা যাক, তোমার নাটকটা একটু পড়ে দেখি ত।
নাটকের প্রথম কয়েকটা পাতা পড়েই বললাম: এ যে দেখছি পুরোনো একটা নাটকের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।
কামাল ভাই কথাটা বোধ হয় ভাল করে শুনতে পায় নি। তাই জিজ্ঞেস করল: কেমন হয়েছে রে?
আমি বললাম: খুব ভাল। মার্ভেলাস।
কামাল ভাই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
খান মোহাম্মদ ফারাবী
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments